
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহী প্রেসক্লাবকে ঘিরে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভা করেছে রাজশাহী প্রেসক্লাব। সভা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মোস্তাফা মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় বক্তারা জানান, গত ১৬ জুন সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক সোহেল মাহবুব রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সদস্যদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও হুমকিসূচক বক্তব্য প্রদান করেন। এর প্রতিবাদেই প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে এ সভার আয়োজন করা হয়।
বক্তারা বলেন, রাজশাহী প্রেসক্লাব দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও মর্যাদাপূর্ণ সাংবাদিক সংগঠন। প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব ও সদস্যদের বিরুদ্ধে অশালীন, ভিত্তিহীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য শুধু প্রেসক্লাব নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজের মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করে। তারা সোহেল মাহবুবের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি যদি অনতিবিলম্বে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা না করেন, তাহলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় প্রেসক্লাবের নতুন সদস্য অনুমোদন, প্রেসক্লাববিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে করণীয়, ভবন সংস্কার কাজের অগ্রগতি, প্রেসক্লাবের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা এবং অন্যান্য সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সরকার শরিফুল ইসলাম, আব্দুল সবুর ও শাহরিয়ার অন্ত, যুগ্ম সম্পাদক আবু কাওসার মাখন ও মো. নুরে ইসলাম মিলন, অর্থ সম্পাদক আল আমিন, দপ্তর সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন বাবু, ক্রীড়া সম্পাদক জিএম হাসান-ই-সালাম বাবুল, পাঠাগার সম্পাদক মো. সুরুজ আলী এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মোঞ্জুয়ারা খাতুন, আজিবার রহমান, রুবেল সরকার, মো. রাজিব আলী রাতুল ও রাউফ উদ্দিন রাফি।
সভা শেষে রাজশাহী প্রেসক্লাবের ঐক্য, মর্যাদা ও সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে সকল সদস্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে প্রেসক্লাবকে ঘিরে যেকোনো অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র ও মানহানিকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।