
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারায় বন্ধ্যাত্ব নিরাময়ের চিকিৎসার কথা বলে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক কবিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত মাহাবুর রহমান (৪৮) উপজেলার তাহেরপুর হরিফলা এলাকার বাসিন্দা। শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহনপুর উপজেলার এক গৃহবধূ বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার জন্য শনিবার বিকেলে মাহাবুর রহমানের বাড়িতে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঝাড়ফুঁকের কথা বলে তাকে একটি কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ঘটনার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত বিষয়টিকে চিকিৎসার অংশ বলে দাবি করেন। একপর্যায়ে কক্ষ থেকে বের হয়ে আসতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। পরে তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শত শত মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাহেরপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে বাগমারা থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছে রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত মাহাবুর রহমানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী নারী জানান, তিন মাসের চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে তার চিকিৎসা শুরু করা হয়েছিল এবং তিনি প্রায় দেড় মাস ধরে সেখানে যাতায়াত করছিলেন। এর আগেও তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, মাহাবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়ির নিচতলায় কবিরাজি চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। ২০২৩ সালেও একই ধরনের অভিযোগে র্যাব-৫ তাকে আটক করেছিল। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত মাহাবুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।