
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলার আগে তাকে হাত কেটে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলা সদরের শহীদ মিনার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক শাহিনুর রহমান সুজন স্থানীয় দৈনিক দিনকাল পত্রিকার চারঘাট প্রতিনিধি। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় সুজন চারঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—চারঘাট পৌর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আলমগীর হোসেন (৪৮), সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনি (৪০), হৃদয় ইসলাম (২৬), আশিক ইসলাম (২৫) ও মো. রকি (৩৪)।
অভিযোগ অনুযায়ী, অবৈধ পুকুর খনন ও মাটি লুটের খবর প্রকাশকে কেন্দ্র করেই এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার ভায়ালক্ষীপুর সরকারি মাদ্রাসা এলাকায় রাতের আঁধারে পুকুর খনন করে মাটি ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ জনদুর্ভোগ বাড়ছিল। এলাকাবাসী বাধা দিলে তাদের ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ রয়েছে।
গত বুধবার দুপুরে ‘রাতের আঁধারে সরকারি মাদ্রাসার মাটি লুট’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সুজন। বিষয়টি জানার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান ঘটনাস্থলে অভিযান চালান এবং সেখানে থাকা দুটি এক্সকেভেটর অকেজো করেন। তবে অভিযানকালে অভিযুক্তরা সরে যান।
অভিযান শেষে সন্ধ্যায় বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম মনি ফোন করে সাংবাদিক সুজনকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। একপর্যায়ে তার হাত কেটে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনার ভয়েস রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে নিজের নিরাপত্তা দাবি করেন সুজন।
এরপর রাত ৯টার দিকে শহীদ মিনার এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় আলমগীর ও মনির নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। তারা বাঁশ ও কাঠের লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সাংবাদিক সুজন বলেন, “সংবাদ প্রকাশের কারণেই আমাকে টার্গেট করে হামলা করা হয়েছে। এখনও প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছি। আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।” তিনি অভিযোগ করেন, থানায় অভিযোগ দিলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকিরুল ইসলাম বিকুল বলেন, “সাংবাদিকের ওপর হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন তুহিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
