
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পদ্মা নদীর চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং চলমান সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইন প্রতিরোধে সর্বস্তরের মানুষকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
সোমবার বিকেলে পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়নের চরখিদিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে পুশ-ইন একটি বেআইনি ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড। দেশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইনের কিছু অপচেষ্টা দেখা গেলেও বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সতর্কতার কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় চরাঞ্চলের বাসিন্দারা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা ও দুর্যোগ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। চরখানপুর এলাকার বাসিন্দা কমর আলী জানান, প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভোটারের এলাকায় কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক বা চিকিৎসাকেন্দ্র না থাকায় সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবার জন্য প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। এতে বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্করা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।
হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবু জাফর প্রমিজ বলেন, শহরের নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও চরাঞ্চলের মানুষ এখনও অনেক মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বর্ষা ও বন্যা মৌসুমে তাদের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পায়। তিনি এলাকায় সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ, সোলার সড়কবাতি স্থাপন এবং গবাদিপশুর জন্য উঁচু আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি রাসেলস ভাইপারের উপদ্রব বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে। এসব সেবার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। চরাঞ্চলে এটি তাঁর প্রথম সফর উল্লেখ করে তিনি স্থানীয় সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন এবং ভবিষ্যতেও উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানান।
সভায় রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশে নাগরিকত্বসংক্রান্ত নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বেড়েছে। সম্প্রতি রাজশাহী সীমান্তে এমন একটি অপচেষ্টা স্থানীয় গ্রামবাসী ও বিজিবির তৎপরতায় ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।