
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদ দুর্নীতির মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। রোববার (৩ মে) রাতে পাবনা সদরের নিজ বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে সোমবার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে সংস্থাটি। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৮ মে তার, স্ত্রী মর্জিনা খাতুন এবং ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা ৩ জুলাই দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন।
পরবর্তীতে অনুসন্ধানে অসঙ্গতি পাওয়ায় ২০২৫ সালের ১১ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আবুল কালাম আজাদ প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
একই সঙ্গে তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুনের বিরুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনি স্বামীর অবৈধ আয়ে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, যা একই আইনের ২৭(১) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য। অন্যদিকে ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের বিরুদ্ধেও প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪১ টাকার অবৈধ সম্পদ ভোগদখলের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের পাবনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, দায়ের করা মামলার ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করে আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
