
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর কমলাপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক সাংবাদিকের ওপর পরিকল্পিত ও নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর তাকে একটি আবাসিক হোটেলের ভেতরে নিয়ে গিয়ে তথাকথিত ‘টর্চার সেল’-এ আটকে নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে কমলাপুর চৌরাস্তার মেইন রোড সংলগ্ন হোটেল বায়ান্ন ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক)-এ এ ঘটনা ঘটে। আহত হন দৈনিক আমাদের কণ্ঠ পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য মো. আলী আশরাফ।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, তার গ্রামের এক সহকর্মী উক্ত হোটেলে রাত্রিযাপনের জন্য গেলে রুম ভাড়া নিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত করার পরিবর্তে হোটেলের কয়েকজন কর্মচারী পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, হোটেলের এক কর্মচারী দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার মাথার বাম পাশে সজোরে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর ৫-৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। প্রাণভিক্ষা চাইলেও হামলাকারীরা থামেনি; বরং আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে হোটেলের মূল ফটক বন্ধ করে তাকে ভেতরে আটকে রেখে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, পরে তাকে একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে ‘টর্চার সেল’-এর মতো পরিবেশে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি ভয়ভীতি দেখিয়ে তার পরনের রক্তমাখা শার্ট খুলে ফেলে গেঞ্জি পরিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাশের দোকানিদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, হোটেলটির কার্যক্রম সন্দেহজনক এবং সেখানে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, হোটেলের ভেতরেই একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র সক্রিয়।
এ হামলায় সাংবাদিক আলী আশরাফের মাথার বাম পাশে গুরুতর আঘাত লাগে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম হন। পরে সহকর্মী সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানায় বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং কয়েকজন সন্দেহভাজনের পরিচয় শনাক্ত করে। তবে সিসিটিভি ফুটেজ চাইলে হোটেল কর্তৃপক্ষ তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর এমন হামলার ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
