
বাংলাদেশে নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপনের অভাব, কর্মসংস্থানের সংকট এবং উচ্চ ব্যাংকঋণের সুদের ফলে উদ্যোক্তারা হতাশা অনুভব করছেন। পাশাপাশি, দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ডলার সংকটের কারণে বিদেশে বিনিয়োগের প্রবণতা বেড়েছে, যা ১২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশে বড় একটি অংশ বিনিয়োগ যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে উদ্যোক্তারা বিদেশে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের সভাপতি বলেছেন, ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ না পেলে উদ্যোক্তারা বিদেশে বিনিয়োগ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দেশের অর্থনীতির জন্য সতর্ক সংকেত।
বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের বিষয়ে অ্যামচেম সভাপতি জানান, ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে নজর দিচ্ছেন, যা বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, বেশ কিছু কোম্পানির বিনিয়োগ থমকে আছে এবং তারা সাশ্রয়ী মূল্যে তহবিল পাচ্ছেন না। বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, পোশাক খাতে বৈশ্বিক অস্থিরতার ফলে কিছুকিছু ব্যবসা বিদেশে বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশে বাংলাদেশের বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৬ কোটি ২১ লাখ ডলার, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ছিল ৩২ কোটি ২২ লাখ ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই বিনিয়োগ ছিল চার-পাঁচ কোটি ডলার এবং ২০২১ সাল থেকে তা দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশে নিট বিনিয়োগ এক কোটি ৫৮ লাখ ডলার।
বাংলাদেশের বিদেশে বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় অংশ ভারতের দখলে, যেখানে মোট বিনিয়োগ ১০ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। যুক্তরাজ্য দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, ১০ কোটি ২১ লাখ ডলার বিনিয়োগ নিয়ে। অন্যান্য দেশগুলির মধ্যে হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মালয়েশিয়া উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ভারতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সোনালী ও এবি ব্যাংকের চলমান বিনিয়োগ বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হয়, অথচ নতুন বিনিয়োগ হয়নি। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ২১ লাখ ডলার বিনিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে তিনটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান, যারা সংযুক্ত আরব আমিরাতে এবং অন্যান্য দেশে নতুন কোম্পানি গঠন করবে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের বেশিরভাগই আর্থিক খাতে বিস্তৃত হয়েছে, যার পরিমাণ ৩১ কোটি ৪১ লাখ ডলার, এবং খনিজ খাতে ৫ কোটি ৪১ লাখ ডলার। উৎপাদনমুখী শিল্পে বিনিয়োগ খুবই কম, মাত্র ৪৮ লাখ ডলার। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, দেশের ব্যবসা পরিচালনায় জ্বালানি ও ব্যাংক সুদের সমস্যার কারণে সমস্যা দেখা দিয়েছে, ফলে তারা বিদেশে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্ন পর্যায়ে থাকার পাশাপাশি বিদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি হওয়া একটি অশনিসংকেত। সম্প্রতি সরকার পরিবর্তনের ফলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অর্থ পাচারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের শীর্ষ কম্পানিগুলি বিদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করছে, যেমন স্কয়ার, বেক্সিমকো ও ইনসেপ্টার। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন যে, বরাবর বিদেশে বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং অবৈধ অর্থপাচারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সর্তক করেছেন যে অনুমতি ছাড়া বিদেশে বিনিয়োগ অর্থপাচার হিসেবে গণ্য হতে পারে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ উল্লেখ করেছেন যে দেশীয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অন্যান্য সমস্যার কারণে ব্যবসায়ীরা বিদেশে বিনিয়োগ করছে। বিজিএমইএ সাবেক পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেছেন যে, রপ্তানিনির্ভর ব্যবসায়ীরা বিদেশে বিনিয়োগ করছে যাতে দেশে সমস্যা হলে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী , ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে বিদেশি বিনিয়োগের স্থিতি ৩৬ কোটি ২১ লাখ ডলার, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ৩২ কোটি ২২ লাখ ডলার থেকে ৩ কোটি ৯৯ লাখ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ ২০১৬-১৭ সালে মাত্র ৪-৫ কোটি ডলার ছিল, তবে ২০২১ থেকে এই ধারা পরিবর্তিত হতে শুরু করে। ২০২২ সালে এটি ২০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং ২০২৪ সালে ৩০ কোটি ডলার অতিক্রম করে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে নিট বিনিয়োগ ১ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, যা গত বছর একই সময়ে ১৭ লাখ ডলার ছিল। দেশের মধ্যে ভারতে বিনিয়োগ সর্বোচ্চ, ১০ কোটি ৫৩ লাখ ডলার; যুক্তরাজ্য ও হংকং যথাক্রমে ১০ কোটি ২১ লাখ ডলার ও ৭ কোটি ৯৮ লাখ ডলার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে। বরাবরের মতো, ব্যাংকগুলো থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিয়োগ হিসাব রাখে, যদিও ভারতের বাজারে নতুন বিনিয়োগের অনুমতি নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে বিদেশে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশী তিন প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি কম্পানি গঠনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ লাখ ডলার এবং করিম টেক্সটাইল পাঁচ লাখ ডলার বিনিয়োগে উক্ত দেশে কম্পানি খুলবে। এছাড়া, ব্রেইন স্টেশন-২৩ লিমিটেড বিদেশে তিনটি কম্পানি গঠন করবে, মোট ৬ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই বিনিয়োগের প্রধান অংশ ফিন্যান্স খাতে; উৎপাদনমুখী শিল্পে বিনিয়োগ মাত্র ৪৮ লাখ ডলার। ব্যবসায়ীরা দেশে বিনিয়োগে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং বিদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রবণতা অর্থনীতির জন্য একটি সংকেত বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেকে বিদেশে বিনিয়োগ করছেন যাতে অর্থ পাচার হয়। বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান, যেমন স্কয়ার ও বেক্সিমকো, বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারিত করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সম্প্রতি বড় বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং বিদেশে বিনিয়োগের উৎস যাচাই করা হবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেছেন, সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অর্থ পাচার করছেন। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের মাসরুর রিয়াজ বলেছেন, দেশে বিনিয়োগ কমেছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ সুদের কারণে, যা ব্যবসায়ীদের অবজারভ করে ফিরতে বাধ্য করেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিদেশে বাংলাদেশিদের মোট বিনিয়োগ ৩৬ কোটি ২১ লাখ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ৩২ কোটি ২২ লাখ ডলারের তুলনায় ৩ কোটি ৯৯ লাখ ডলার বেড়েছে। অতীতের তুলনায় ২০২১ সাল থেকে এ ধারা দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যেখানে বিদেশে বিনিয়োগ ছিল ৪-৫ কোটি ডলার।
বাংলাদেশিরা বিদেশের বাজারে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে ভারত এবং সেখানে মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। যুক্তরাজ্য দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যেখানে বিনিয়োগ ১০ কোটি ২১ লাখ ডলার। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দেশে রয়েছে হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, এবং মালয়েশিয়া। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো বিদেশি বিনিয়োগের রিপোর্ট জমা দেয়, কিন্তু নতুনভাবে ভারতে বিনিয়োগ হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের জন্য তিনটি কোম্পানির বিদেশে কোম্পানি খোলার অনুমতি দিয়েছে। বিনিয়োগের বেশিরভাগই আর্থিক খাতে হয়েছে, যেখানে উৎপাদনমুখী শিল্পে বিনিয়োগ যথেষ্ট কম। ব্যবসায়ীরা দেশে বিনিয়োগ করতে সমস্যার সম্মুখীন, বিশেষ করে জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদের হার এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে, যা তাদের বিদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের নিচে নেমেছে, যা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আস্থাহীনতার ইঙ্গিত। বিদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো অর্থপাচারের অশনিসংকেত, বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর। বিশ্লেষকরা জানান, বিদেশে রপ্তানি বৃদ্ধি বাংলাদেশি অর্থনীতি ও শিল্পের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। কিছু শীর্ষ কোম্পানি বিদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারিত করেছে, তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সাম্প্রতিক বড় বিনিয়োগের অনুমতি দেয়নি। টিআইবির নির্বাহী director জানান, অনুমতি ছাড়া বিদেশে বিনিয়োগ অর্থপাচার। দেশের বিনিয়োগের পরিবেশ হারানোর কারণগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ ঋণ সুদের হার রয়েছে।
