
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অবৈধ সম্পদ ও মানিলন্ডারিং–সংক্রান্ত দুটি পৃথক ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম। এক ঘটনায় মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সম্পদের অভিযোগে মো. তারেক হোসেনের চারটি দলিলভুক্ত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক (অ্যাটাচ) করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
অন্যদিকে, আব্দুর রহিম টিপু ও তাঁর তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মো. ফয়েজুল রহমান।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহীর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর ১৪ ধারায় মো. তারেক হোসেনের নামে থাকা চারটি দলিলভুক্ত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ক্রোকাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় এসব সম্পত্তি হস্তান্তর, বিক্রি, বিনিময়, রূপান্তর কিংবা দায়যুক্ত করা যাবে না।
মিস পিটিশন মামলা নং–০২/২০২৬-এর আদেশ অনুযায়ী, গোদাগাড়ী উপজেলার বাজে তিরিন্দা ও মাছমারা মৌজায় অবস্থিত প্রায় ২১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি ক্রোক করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা রেজিস্ট্রার, গোদাগাড়ীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারকে সম্পত্তিগুলোর হস্তান্তর বা নিবন্ধন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বাদী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান বলেন, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সম্পদ যাতে স্থানান্তর বা রূপান্তর করা না যায়, সে লক্ষ্যেই আদালতের নির্দেশে এই ক্রোকাদেশ জারি করা হয়েছে। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের আইনগত পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, পৃথক ঘটনায় মহিষালবাড়ী মাদারপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ফয়েজুল রহমান এনএসআই মহাপরিচালকের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে আব্দুর রহিম টিপু এবং তাঁর ভাই মনিরুল, মেহেদী ও সোহেলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তদের নামে এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নামে গোদাগাড়ী, রাজশাহী মহানগর ও আশপাশের এলাকায় বাড়ি, মার্কেট, দোকান, কৃষিজমি, পুকুর, খামার ও বিভিন্ন যানবাহনসহ বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগের উল্লেখ থাকলেও সেগুলো এখনো কোনো তদন্ত সংস্থা বা আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি। আবেদনকারী অভিযোগের সঙ্গে সম্পত্তি-সংক্রান্ত কিছু নথি ও সংবাদপত্রের কাটিং সংযুক্ত করেছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রহিম টিপু, মনিরুল, মেহেদী ও সোহেলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অন্যতম শর্ত।