ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 20, 2026 ইং
ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ ছবির ক্যাপশন:
ad728

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, উসকানি ও সহযোগিতার দায়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল ৫০০ পৃষ্ঠার এ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করেন। রায় প্রকাশের পর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে প্রসিকিউশন। এরই মধ্যে আপিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত ৩০ জুন ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটিতে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সাজাগুলো একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় মোট ১০ বছর কারাগারে থাকতে হবে তাকে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করা, নির্যাতন ও রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের ঘটনায় তার দায় প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও সহযোগিতার অভিযোগেও তার দায় প্রমাণিত হয়। এসব অভিযোগে তাকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পৃথকভাবে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। তবে সব সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হবে।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ছবি দেখে তালিকা তৈরির উদ্যোগ এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগটি প্রমাণিত হয়েছে। একইভাবে ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে ভূমিকা এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যদিকে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনু আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়।

অষ্টম অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলনকারী ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিনকে হত্যায় নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ ছিল। একই সঙ্গে সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছিল। তবে এ অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইনুকে খালাস দেওয়া হয়।

এদিকে, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলাতেও ইনুর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া এগোচ্ছে। ২০১৩ সালে তথ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় শাপলা চত্বরের ঘটনায় কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকার অভিযোগে তাকে ওই মামলায় বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Rahman Moti

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দুপুরে রাজশাহী আসছেন প্রধানমন্ত্রী, বিকেল ৩টায় জনসভা

দুপুরে রাজশাহী আসছেন প্রধানমন্ত্রী, বিকেল ৩টায় জনসভা