ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনে সহযোগিতা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 10, 2026 ইং
বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনে সহযোগিতা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন:
ad728

মানববর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রকল্পটির প্রদর্শনী পরিদর্শনকালে তিনি এ আশ্বাস দেন।প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান।

প্রদর্শনীতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামানসহ গবেষকেরা মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি, গবেষণার অগ্রগতি এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হন।

গবেষকেরা জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে পরিচালিত এ গবেষণায় ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ (এইচটিএল) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। গবেষণাগারের পরীক্ষায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের ফল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ডিজেলসমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও সাফল্য এসেছে।

গবেষণার পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। প্রস্তাবিত পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা।

তাঁদের হিসাবে, প্রযুক্তিটি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বছরে আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নের আগে বৃহৎ পরিসরে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই করতে হবে।

গবেষকদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তায় প্রকল্পটি বাণিজ্যিক পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হলে দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, পরিবেশদূষণ কমানো এবং দেশীয় জ্বালানি শিল্পের বিকাশেও ভূমিকা রাখবে প্রযুক্তিটি।

প্রদর্শনীতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Rahman Moti

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দুপুরে রাজশাহী আসছেন প্রধানমন্ত্রী, বিকেল ৩টায় জনসভা

দুপুরে রাজশাহী আসছেন প্রধানমন্ত্রী, বিকেল ৩টায় জনসভা