নিজস্ব প্রতিবেদক, সাপাহার: সাপাহারের কৃতী সন্তান ও সুপ্রিম কোর্টের সাবেক আপিল বিভাগের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁর এ নিয়োগে সাপাহারসহ নওগাঁজুড়ে আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই প্রজ্ঞাপনে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে দুদকের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান অনুযায়ী তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
আইনজীবী থেকে আপিল বিভাগ, এবার দুদকের নেতৃত্বে
বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ১৯৫৯ সালের ১ মার্চ নওগাঁর সাপাহার উপজেলার খঞ্জনপুর তালকুড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা এম এ সামাদও ছিলেন একজন খ্যাতিমান আইনজীবী।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৮৩ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে তাঁর আইন পেশায় যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
২০০৩ সালে এ কে এম আসাদুজ্জামান হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৫ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হন। দীর্ঘ বিচারিক দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন বিচারপতি আসাদুজ্জামান। অবসরের কয়েক মাসের মধ্যেই এবার রাষ্ট্রের দুর্নীতি দমন সংস্থার সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পেলেন তিনি।
গর্বিত সাপাহার, আনন্দ নওগাঁয়
কৃতী সন্তান এ কে এম আসাদুজ্জামান দুদকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ায় সাপাহারসহ নওগাঁর স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। তাঁর এই নিয়োগকে সাপাহার তথা নওগাঁবাসীর জন্য সম্মান ও গৌরবের বিষয় হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতা, আইন বিষয়ে দক্ষতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দুর্নীতি দমন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
Rahman Moti