#বানেশ্বর-বাঘা অংশে সড়কের পাশে কাঠের স্তূপ ও ঝোপঝাড়,৩৮ কিলোমিটারে বছরে আহত ৪ হাজার ২৪৯,নিহত ২৮,২১ স-মিল।
শাহিনুর সুজন,স্টাফ রিপোর্টারঃ
সড়কের কাঁধ বা রোড শোল্ডার। মহাসড়কের মূল সড়কের দুই পাশে থাকা এ অংশটি শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়। জরুরি প্রয়োজনে গাড়ি থামানো, দুর্ঘটনাকবলিত যান সরিয়ে রাখা এবং সড়কে চলাচলরত যানবাহনের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ অংশ। সড়কের স্থায়িত্ব রক্ষায়ও রোড শোল্ডারের ভূমিকা রয়েছে।
কিন্তু রাজশাহীর বানেশ্বর-ঈশ্বরদী মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সেই ‘কাঁধ’ই এখন দখল করে চলছে চাষাবাদ। কোথাও আদা, হলুদ, নেপিয়ার ঘাস, কলা ও পেঁপে চাষ করা হয়েছে। কোথাও তৈরি হয়েছে ঘন ঝোপঝাড়। আবার কোথাও সড়কের শোল্ডার দখল করে কাঠ চিরাইয়ের স-মিলের ব্যবসা চলছে। এসব স-মিলের কাঠও রাখা হচ্ছে সড়কের পাশে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে গাড়ি থামানোর জায়গা থাকছে না। পাশাপাশি সড়কের বাঁক ও পাশের অংশে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। রাতে ঝোপঝাড়কে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
রাজশাহীর বানেশ্বর থেকে পাবনার ঈশ্বরদী পর্যন্ত প্রায় ৫৪ কিলোমিটার সড়ককে ২০২০ সালে আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয়। প্রায় ৫৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির নির্মাণকাজ করা হয়। পরে জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন কাজে আরও প্রায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়। ২০২৪ সালের শুরুতে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হয়।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে রাজশাহীর যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে প্রতিদিন ভারী যানবাহনসহ হাজারো যান চলাচল করে। অথচ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার দুই বছরের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশের শোল্ডার দখল হয়ে গেছে। স্থানীয়দের একাংশ সেখানে ফসল ফলাচ্ছেন। কোথাও সড়কের একেবারে পাশ ঘেঁষে তৈরি হয়েছে নেপিয়ার ঘাস ও কলাবাগান। আবার কোথাও কাঠ চিরাইয়ের স-মিলের কাঠ স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এতে সড়কের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
৩৮ কিলোমিটারে বছরে আহত ৪ হাজার ২৩৭ জন
চারঘাট ও বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বানেশ্বর-ঈশ্বরদী মহাসড়কের চারঘাট ও বাঘা উপজেলার প্রায় ৩৮ কিলোমিটার অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪ হাজার ২৪৯ জন। একই সময়ে এ দুই উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২৮ জন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের ওপর গাড়ি রেখে মালামাল ওঠানো-নামানো,রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা, শোল্ডার দখল করে ফসল ও ঝোপঝাড় তৈরি এবং স-মিলের কাঠ সড়কের পাশে রাখার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
গত ২৭ জুন রাত ৮টার দিকে বাঘা থেকে অটোরিকশায় বন্ধুদের সঙ্গে রাজশাহী ফিরছিলেন রাফিউল এহসান (১৫)। রাওথা নুরুল বটতলা এলাকায় সড়কের ওপর ট্রলি রেখে তাতে কাঠ সাজানো হচ্ছিল। অন্ধকারে অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কাঠের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় রাফিউল।
এর আগে গত ৭ নভেম্বর বানেশ্বর বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন শলুয়া এলাকার তুহিন আলী (২৫), মারুফ আলী (১৮) ও শিমুল আলী (২৫)। শিবপুর এলাকায় পৌঁছালে সড়কের ওপর একটি ট্রাক রেখে ডাল নামানো হচ্ছিল। ট্রাকটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন বন্ধু মারা যান।
সড়কে চলাচলকারী ট্রাকচালক মকসেদ আলী বলেন, সড়কের শোল্ডার ব্যবহার করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই মূল সড়কের ওপর গাড়ি রেখে মালামাল ওঠানো-নামানোর প্রয়োজন হতো না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমত। কিন্তু শোল্ডার দখল থাকায় অনেক সময় মূল সড়কেই গাড়ি রাখতে হচ্ছে।
বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ এলাকার শিক্ষক ফজলুর রহমান বলেন, চারঘাট-বাঘা এলাকায় প্রচুর আম হয়। শত শত ট্রাকে আম ওঠানো-নামানো করা হয়। সড়কের পাশে জায়গা না থাকার কারণে সড়কেই এসব গাড়ি রাখা হচ্ছে। এতে সড়কে বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে।
রোড শোল্ডারের ঝোপে লুকিয়ে ছিনতাই
শুধু দুর্ঘটনা নয়, রোড শোল্ডারে গড়ে ওঠা ঝোপঝাড় নিয়েও আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, রাতে এসব ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে থেকে ছিনতাইকারীরা যানবাহন থামিয়ে ছিনতাই করছে।
শলুয়া গ্রামের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী মানিক ইসলাম বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাবনা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মালামাল নিয়ে বানেশ্বর যাচ্ছিলেন তিনি। চারঘাট উপজেলার ফায়ার সার্ভিস মোড় এলাকায় পৌঁছালে সড়কের শোল্ডারে থাকা নেপিয়ার ঘাসের ভেতর থেকে তিন ব্যক্তি বের হয়ে পথরোধ করেন। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে যান তাঁরা।
মানিক ইসলাম বলেন,সড়কের পাশে মানুষের চেয়েও বেশি উচ্চতার নেপিয়ার ঘাস। এর মধ্যে কেউ লুকিয়ে থাকতে পারে, দূর থেকে বোঝার উপায় নেই। আমার কয়েক লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। সড়কের পাশ পরিষ্কার থাকলে দূর থেকে কাউকে দেখা গেলে আগেই সতর্ক হওয়া যেত।
চারঘাট উপজেলার প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার আব্দুল আওয়ালও একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন। রাজশাহী শহরে ব্যবসার মালামাল কিনতে যাওয়ার সময় সড়কের তালতলা এলাকায় দুই ব্যক্তি তাঁর মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেন। এতে তিনি সড়কের পাশের ঘাস ও কলাবাগানের মধ্যে পড়ে যান। এ সুযোগে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যান তাঁরা।
আব্দুল আওয়াল বলেন, ঝোপের মধ্যে পড়ে যাওয়ার পর তিনি কাউকেই ঠিকমতো দেখতে পারেননি। ফলে ছিনতাইকারীদের চিনতে বা মোটরসাইকেল নিয়ে তাঁদের পিছু নেওয়ারও সুযোগ ছিল না।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শামিম ইসলাম বলেন,সড়কের পাশের এসব আবাদ আমাদের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতে চলাচলের সময় এসব ফসলের ঝোপের ভেতর থেকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে ছিনতাই করা হচ্ছে। আমাকেও তিনদিন পথরোধ করা হয়েছে।
শোল্ডার দখল করে ২১ শমিল, সড়কের পাশেই কাঠের স্তূপ
বানেশ্বর-ঈশ্বরদী মহাসড়কের চারঘাট ও বাঘা উপজেলার অংশে সড়কের পাশেই রয়েছে অসংখ্য কাঠের শমিল। এর মধ্যে শুধু এ দুই উপজেলার সড়কের পাশে রয়েছে ২১টি স-মিল। এসব শমিলের কাঠও অনেক ক্ষেত্রে সড়কের শোল্ডার ও সড়কের একেবারে পাশে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব শমিলের অধিকাংশের বৈধ অনুমোদন নেই। সড়কের পাশে কাঠ রাখা এবং শমিলের কাজে ব্যবহৃত কাঠ ওঠানো-নামানোর সময় যানবাহন মূল সড়কে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। এতে সড়কের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
সড়কের পাশে অবস্থিত টুইস্টার ফার্নিচার অ্যান্ড স-মিলের মালিক তারিক হোসেন এবং জাকারিয়া স-মিলের মালিক জাকারিয়া বলেন,মহাসড়কের শোল্ডারে কাঠের স্তূপ রাখা আমাদের ঠিক হয়নি। বিষয়টি বুঝতে পেরেছি, আমরা দু-এক দিনের মধ্যে সড়কের পাশ থেকে কাঠগুলো সরিয়ে নেব। তবে বন বিভাগের নোটিশ দেওয়ার বিষয়ে আমরা অবগত নই। এর আগে শোল্ডারে কাঠের গুঁড়ি রাখার বিষয়ে আমাদের কেউ লিখিত বা মৌখিকভাবে সতর্ক করেননি।
স্থানীয়রা বাসিন্দা চারঘাট উপজেলা শিক্ষক কমিটির সভাপতি ও হলিদাগাছি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন,সড়কের শোল্ডার দখল করে চাষাবাদ, ঝোপঝাড় বা কাঠের স্তূপ রাখা এবং সড়কের ওপর কাঠবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য যান দাঁড় করিয়ে রাখা সড়ক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি। এতে দুই লেনের ব্যস্ত মহাসড়কে যান চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে যায়, চালকের দৃষ্টিসীমা কমে এবং জরুরি মুহূর্তে যানবাহন নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত শোল্ডার দখলমুক্ত করা, সড়কের ওপর থেকে প্রতিবন্ধকতা সরানো এবং নিয়মিত নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।
সড়কের পাশে থাকা এসব শমিলের কারণে শুধু যান চলাচলেই সমস্যা হচ্ছে না, রোড শোল্ডারও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। কোথাও কাঠের স্তূপ, কোথাও ঝোপঝাড়, আবার কোথাও ফসলের আবাদ,সব মিলিয়ে সড়কের পাশের নিরাপদ জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।
চারঘাট উপজেলা বন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, স-মিলের কাঠের স্তূপ দিয়ে আঞ্চলিক মহাসড়কের জায়গা দখল করে রাখার বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে স-মিল মালিকদের একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং অভিযান চালিয়ে সড়কের ওপর রাখা কাঠের স্তূপ উচ্ছেদও করা হয়েছে। তবে অভিযান শেষে ব্যবসায়ীরা আবারও মহাসড়কের ওপর কাঠের স্তূপ রাখছেন। এতে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত আবারও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শত শত কোটি টাকার রাস্তায় শোল্ডার উধাও
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মহাসড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণে শুধু মূল সড়ক নির্মাণেই অর্থ ব্যয় হয় না। প্রয়োজন অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণ, সড়কের পাশের জায়গা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজেও বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। এরই অংশ হিসেবে সড়কের দুই পাশে রোড শোল্ডার রাখা হয়।
কিন্তু বানেশ্বর-ঈশ্বরদী সড়কের বিভিন্ন অংশে সরেজমিন দেখা গেছে, কোথাও শোল্ডারের অস্তিত্বই নেই। কেউ কেউ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। আবার কেউ চাষাবাদের জমি বানিয়ে ফেলেছেন। শ্রমিক লাগিয়ে ও মেশিন দিয়ে এসব শোল্ডারের জায়গায় চাষ করে ফসল ফলানো হচ্ছে। কোথাও আবার শমিলের কাঠ রাখা হয়েছে।
চারঘাটের নাওদাড়া এলাকার চাষি আব্দুল হান্নান বলেন, সড়কের পাশে ফাঁকা জায়গা ছিল, এজন্য চাষ করে পেঁপে বাগান ও নেপিয়ার ঘাসের চাষ করেছেন। কেউ নিষেধ করেনি, এজন্য চাষের পরিমাণ বাড়িয়েছেন। রাস্তার পাশে ছাগল-গরুর অত্যাচার কম, এজন্য ফসলও ভালো হচ্ছে। তাঁর মতো অনেকেই সেখানে আবাদ করছেন।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চারঘাট উপজেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকার শত কোটি টাকা ব্যয় করে জমি অধিগ্রহণ করে রোড শোল্ডার তৈরি করেছে সড়ককে নিরাপদ রাখার জন্য। কিন্তু সেই জায়গাই যদি দখল করে চাষাবাদ, ঝোপঝাড় ও ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা হয়, তাহলে এর উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। এতে দুর্ঘটনা ও ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বাড়ছে।
তিনি বলেন, চার লেনের সড়কে রোড ডিভাইডারের মধ্যে কিছু গাছ লাগালে সৌন্দর্য বাড়তে পারে। কিন্তু এটি দুই লেনের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। এখানে সবার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার।
সমাধানে যা বলছেন কর্মকর্তারা
চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান বলেন, সড়কের দুই পাশ পরিষ্কার থাকলে পুলিশের নিরাপত্তা দেওয়া সহজ হয়। ঝোপঝাড় থাকলে কয়েক মিটার পরের কিছুই দেখা যায় না। এতে নিরাপত্তার সমস্যা হয়। পুলিশ নিজেরা রোড শোল্ডারের এসব ফসল বা ঝোপঝাড় অপসারণ করতে পারে না। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে।
সড়কের শোল্ডার দখলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ), রাজশাহীর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল মান্নাফ আকন্দ।
তিনি বলেন, বানেশ্বর-ঈশ্বরদী সড়কের রোড শোল্ডারে নেপিয়ার ঘাসসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করায় বেশ কিছু জায়গায় ঝোপঝাড় তৈরি হয়েছে। বিষয়টি তাঁদেরও নজরে এসেছে। এসব ঝোপঝাড়ের কারণে সড়কে নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।
তিনি আরও বলেন, তাঁরা সড়কের পাশের বাসিন্দাদের বিভিন্নভাবে সতর্ক করছেন। তারপরও অনেকে সচেতন না হয়ে সড়কের স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট করছেন। এসব দখলকারীকে তিন দিন থেকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে। এর মধ্যে তাঁরা নিজেরা এসব অপসারণ না করলে সরকারি আইন অনুযায়ী সড়কের শোল্ডার পরিষ্কার করে দেওয়া হবে।
তবে সড়কের পাশে থাকা ২১টি শমিল, সেখানে কাঠের স্তূপ রাখা এবং এসব শমিলের বৈধতা নিয়েও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শমিলগুলোর অনুমোদন, সড়কের জায়গা ব্যবহারের বৈধতা এবং কাঠ সড়কের পাশে রাখার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
Rahman Moti