নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা :
রাজশাহীর বাঘায় গোয়ালঘরে জ্বালানো মশার কয়েল থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন পরিবারের ঘরবাড়ি, ফসল, আসবাবপত্র ও নগদ টাকা পুড়ে গেছে।
এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে গোয়ালে থাকা গরু-মহিষগুলো প্রাণে রক্ষা পেয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের দিঘা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো একই বাড়ির বাসিন্দা নূরুল হক নূরু এবং তাঁর তিন ছেলে ইমদাদুল হক, শরিফুল হক ও সাজেদুল হক।
কয়েলের আগুনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, নূরুল হকের গোয়ালঘরে মশার কয়েল জ্বালানো ছিল। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে পরে তা রান্নাঘর ও বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই আগুন গ্রাস করে সাতটি আধাপাকা টিনশেড ঘর, তিনটি গোয়ালঘর ও তিনটি রান্নাঘর।
ইমদাদুল হকের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে বাঘা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয়দের ধারণা, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সময় ফ্রিজের কম্প্রেসার ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। তবে এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কোনো বিস্ফোরণের বিষয় নিশ্চিত করা হয়নি।
বাঘা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী স্টেশন ইনচার্জ মিনহাজুল হক জানান, প্রাথমিক হিসাবে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পুড়েছে ফসল, স্বর্ণ ও নগদ টাকা
অগ্নিকাণ্ডে ইমদাদুল হকের ১৫ মণ পাট, ৫০ মণ পেঁয়াজ, ১০ মণ রসুন, ২০ মণ চাল, ১৫ মণ গম ও নগদ ৫ লাখ টাকা পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে টেলিভিশন, ফ্রিজসহ ঘরের বিভিন্ন মালামালও নষ্ট হয়েছে।
শরিফুল হকের ২০ মণ চাল, ৫ মণ রসুন, ১০ মণ পাট, এক ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৮০ হাজার টাকা পুড়ে যায়।
অন্যদিকে সাজেদুল হকের মহিষ বিক্রির জন্য রাখা সাড়ে ৪ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণ, ২০ মণ চাল, ১০ মণ গম, ১০ মণ পাট, ৫০ মণ পেঁয়াজ, ১০ মণ রসুন, টেলিভিশন, মুঠোফোনসহ ঘরের সব আসবাবপত্র পুড়ে গেছে।
নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, ‘আগুনের মধ্যে গোয়ালের গরু-মহিষের দড়ি কেটে দেওয়ায় প্রাণে বেঁচেছে। এখন পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নেই।’
ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে এমপি-প্রশাসন
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন ও বাঘা থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
শনিবার সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ। এ সময় তিনি তিন পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা, ৪০০ কেজি চাল, পাঁচটি শাড়ি, পাঁচটি লুঙ্গি, ২০ কেজি আলু, পাঁচ কেজি মসুর ডাল ও আট প্যাকেট শুকনা খাবার দেন।
পরে এমপির নির্দেশে বাঘা উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ইউএনও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নগদ অর্থ, শুকনা খাবার ও কম্বল দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে দুই বান্ডিল করে টিন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে এখন অসহায় তিন পরিবার। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনে সরকারি-বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Sanwar Arif