লেখক: ডা. সাজিয়া নওরীন
বিএইচএমএস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), গভঃ রেজি নং: H-1779 | হোমিওপ্যাথিক ফিজিশিয়ান, পদ্মা হোমিও মেডিকেয়ার, রাজশাহী
Il চিকিৎসা পরিসংখ্যান ও গবেষণা সূত্র:
আমেরিকান ইউরোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (AUA) এবং এশিয়ান জার্নাল অব নেফ্রোলজির গবেষণা অনুসারে, বরেন্দ্র অঞ্চলের মতো তীব্র দাবদাহপ্রবণ এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী পানিশূন্যতার কারণে কিডনি পাথরের ঝুঁকি প্রায় ৩৪% বৃদ্ধি পায়। আরও আশঙ্কাজনক তথ্য হলো, একবার অপারেশন বা লিথোট্রিপসি করার পর পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে প্রায় ৫০% রোগীর ক্ষেত্রে পুনরায় পাথর তৈরি হয়।
বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রমাণ সূত্র (Evidence Proof): American Urological Association (AUA) Guideline: Medical Management of Kidney Stones (PubMed ID: 24857648) বরেন্দ্র অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতি বছর তীব্র গ্রীষ্মে রাজশাহী বিভাগের তাপমাত্রা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ঘাম এবং পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি পানের ঘাটতির কারণে রাজশাহী অঞ্চলে কিডনি পাথর বা রেনাল ক্যালকুলির রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। প্রস্রাবে খনিজের ঘনত্ব বেড়ে গেলে ক্যালসিয়াম অক্সালেট ও ইউরিক অ্যাসিড জমাট বেঁধে পাথরের সৃষ্টি হয়।
প্রাথমিক অবস্থায় পাথর খুব ছোট থাকলে কোনো লক্ষণ নাও দেখা দিতে পারে। তবে পাথর যখন কিডনি থেকে মূত্রনালীর (Ureter) দিকে নামতে শুরু করে, তখন পিঠের নিচের অংশে তীব্র অসহ্য ব্যথা শুরু হয়, যা তলপেট ও কুঁচকির দিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রস্রাবে তীব্র জ্বালাপোড়া, রক্তক্ষরণ, বমি বমি ভাব এবং ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া এর প্রধান উপসর্গ। অনেক রোগী তীব্র ব্যথায় অস্থির হয়ে তাৎক্ষণিক অপারেশন বা লিথোট্রিপসির সিদ্ধান্ত নেন, যা প্রায়শই ব্যয়বহুল এবং কিডনি টিস্যুর জন্য ট্রমাটিক হতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, পাথরের আকার ১০ মিলিমিটারের নিচে থাকলে এবং মূত্রনালীতে সম্পূর্ণ ব্লকেজ না থাকলে কোনো প্রকার কাটাছেঁড়া ছাড়াই উপযুক্ত ড্রেনেজ ও কনস্টিটিউশনাল ব্যবস্থাপনায় পাথর প্রস্রাবের সাথে বের করে আনা সম্ভব। রাজশাহীর রোগীদের ক্ষেত্রে কিডনি পাথর অপারেশন ছাড়া চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে মূত্রনালীর স্পাজম শিথিল করে এবং পাথরের বন্ধন ভেঙে প্রাকৃতিক উপায়ে সম্পূর্ণ নিরাময় অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে রোগীর শারীরিক মেটাবলিজম ঠিক হওয়ায় পরবর্তীতে বারবার পাথর তৈরির প্রবণতাও চিরতরে বন্ধ হয়।
বিশেষজ্ঞ মতামত (ডা. সাজিয়া নওরীন):
"রাজশাহীতে আমাদের ক্লিনিকে আসা অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই দেখা যায় তারা নিয়মিত পানি কম খান। পেইনকিলার খেয়ে কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট না করে রোগীকে হাইড্রেটেড রাখা এবং ধাতুগত চিকিৎসার মাধ্যমে পাথর গুঁড়ো করে বের করাই সবচেয়ে নিরাপদ আধুনিক পদ্ধতি।
স্বাস্থ্য পরামর্শ ও সতর্কতা: কিডনি সুস্থ রাখতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ থেকে ৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করুন, অতিরিক্ত কাঁচা লবণ ও কোল্ড ড্রিঙ্কস বর্জন করুন এবং তীব্র ব্যথায় নিজে নিজে ব্যথানাশক না খেয়ে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Rahman Moti