
নিজস্ব প্রতিনিধি:রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নির্বাচন-পূর্ব সময়ে এমন অস্ত্র মজুতের খবর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। র্যাব-৫ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাগমারা থানাধীন বইকুড়ি সরদারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ৫৬টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। রোববার দুপুরে র্যাব-৫-এর সিপিএসসি কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হক পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১৬টি ছুরি, ৪টি চাপাতি, ৪টি হাসুয়া এবং ৩২টি কুঠার সদৃশ টাঙ্গি। নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে এসব অস্ত্র জব্দ করে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থার জন্য বাগমারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সম্ভাব্য গণভোটকে বাধাগ্রস্ত করা অথবা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যেই এসব দেশীয় অস্ত্র গোপনে মজুত করা হয়েছিল। অস্ত্রের পরিমাণ ও ধরন বিবেচনায় এটি কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং সংঘবদ্ধ সহিংসতার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা নতুন কিছু নয়। অতীতে ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার, প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো কিংবা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির জন্য বিভিন্ন এলাকায় দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বাগমারার এই ঘটনা সেই পুরনো বাস্তবতারই পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা না হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারা এই অস্ত্র মজুত করেছিল, কার স্বার্থে এবং কী উদ্দেশ্যে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। ফলে শুধু অস্ত্র উদ্ধার নয়, এর পেছনের নেটওয়ার্ক ও পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করাই এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচনের আগে এমন ঘটনা সাধারণ ভোটারদের মনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করতে পারে, যা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি ও একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। র্যাব জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বাগমারায় দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাটি আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে এখন কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
