
নিজস্ব প্রতিনিধি

রাজশাহীর তরুণ রাজনীতিক মাহফুজুর রহমান রিটনকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় নগরীর রাজনৈতিক অঙ্গন ও তরুণদের মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে ধারাবাহিক দুইটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় তাকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও তরুণ সমাজে বেশ উৎসাহ দেখা।
গত বছরের ১ নভেম্বর রাজশাহী মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনের প্রায় তিন মাস পর ঘোষিত ওই কমিটিতে অনেককে চমকে দিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান মাহফুজুর রহমান রিটন। সে সময় তিনি রাজশাহী মহানগর যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এর সাড়ে তিন মাসের মাথায় আবারও নতুন চমক দেন এই তরুণ নেতা। শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে রাজশাহীসহ দেশের পাঁচটি সিটি কর্পোরেশনে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাহফুজুর রহমান রিটনকে।
মাত্র ৪৮ বছর বয়সে দলের অনেক সিনিয়র নেতাকে পেছনে ফেলে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তরুণদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজে ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে মানবিক বিভাগে অধ্যয়নকালে ক্লাস কমিটির সভাপতি হিসেবে রিটনের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। পরে তিনি সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ২০০২ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৬ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্ররাজনীতি শেষে যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন রিটন। ২০১৬ সালে মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০১৭ সালে সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২৩ সাল পর্যন্ত ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি মহানগর যুবদলের সভাপতি হন। একই সময়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ২০২৫ সালে ১ নভেম্বর যুবদলের সভাপতি থাকাকালেই তিনি রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৭৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া মাহফুজুর রহমান রিটন বর্তমানে নগরের হেতমখাঁ এলাকায় বসবাস করছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি (অনার্স)। দীর্ঘ আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজশাহীতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণে তাকে তিনবার কারাবরণও করতে হয়েছে।
এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি সরকার দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। এরপর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদ নিয়ে বিএনপির একাধিক নেতার নাম আলোচনায় আসে। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুদ, সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা ও আবুল কালাম আজাদ সুইট।
তবে শেষ পর্যন্ত তুলনামূলক তরুণ এই রাজনীতিককেই দায়িত্ব দেয় সরকার। এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা নিয়ে মাহফুজুর রহমান রিটন কীভাবে রাজশাহী নগর প্রশাসনের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পরিচালনা করেন।