
স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় নারী সহায়তা ফোরামের সদস্যদের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের এক গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনিক সভাকক্ষে এ সংলাপের আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লাইট হাউজ।
লাইট হাউজ বাস্তবায়িত ‘নাগরিক অধিকার ও জলবায়ু ন্যায্যতা’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ সংলাপ সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ) নাগরিকতা প্রোগ্রামের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।
সংলাপে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নারী প্রতিনিধিরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে হয়রানি, দীর্ঘসূত্রিতা ও নানা ধরনের ভোগান্তির অভিযোগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে উদ্যোক্তা পর্যায়ে সেবা প্রদানে অনিয়ম, অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এবং তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে ভোগান্তির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া কিছু ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে বয়স বৃদ্ধি বা হ্রাসসহ বিভিন্ন তথ্য পরিবর্তনে অনিয়মের অভিযোগও আলোচনায় উঠে আসে।
সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। আগামী মাসিক সমন্বয় সভায় সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে সেবা পেতে পারেন। সংলাপে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহের ঘাটতি নিয়েও আলোচনা হয়।উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান বলেন,সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সেবার সুবিধা যেন প্রকৃত উপকারভোগীরা সহজে পান, সে বিষয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নারীদের অংশগ্রহণমূলক এ ধরনের সংলাপ সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সারওয়ার উদ্দিন বলেন,১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যুবক-যুবতীদের জন্য বিভিন্ন কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে সরকারি ঋণ সুবিধার মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের পথ তৈরি করা সম্ভব। তরুণদের এসব সুযোগ গ্রহণে এগিয়ে আসতে হবে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাশেদা পারভীন বলেন,নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। সেবা প্রাপ্তিতে নারীরা যাতে কোনো ধরনের বৈষম্য বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। অনুষ্ঠানে নারী ফোরামের ২০ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া লাইট হাউজের ‘নাগরিক অধিকার ও জলবায়ু ন্যায্যতা’ প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার সানজিদা নাসরিন এবং উপজেলা সমন্বয়কারী মোছা. তাসলিমা আক্তার সংলাপটি সমন্বয় করেন।
বক্তারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নারীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ, সেবার মানোন্নয়ন এবং জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।