
অনলাইন ডেস্ক:
ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। বুধবার দুপুরে বগুড়ার সান্তাহার জংশন স্টেশনের অদূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা-ঈশ্বরদী-দিনাজপুর-পঞ্চগড় রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, রেলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটিতে আরও রয়েছেন যন্ত্র প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান সংকেত প্রকৌশলী।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বুধবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে নীলসাগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে চিলাহাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সান্তাহার স্টেশন অতিক্রম করে তিলকপুরের দিকে যাওয়ার সময় বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার বাগমারি এলাকায় ট্রেনটির নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়।
এ ঘটনায় অন্তত ৬৬ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যানার সিগন্যাল উপেক্ষা করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেলের প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা আগে থেকেই ব্যানার ফ্ল্যাগ ও সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। স্টেশন থেকেও সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
দুর্ঘটনার পর উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সন্ধ্যা ও রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত অধিকাংশ ট্রেন সময়মতো চলাচল করবে। পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি সেকশন ক্লিয়ার না হওয়া পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে না।
প্রয়োজনে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসকে বিকল্প পথে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হলে দ্রুতযান এক্সপ্রেস পথে বিলম্বিত হতে পারে। এছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে নীলসাগর ও একতা এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা দেরিতে ছেড়ে যেতে পারে।
সাময়িক এ ভোগান্তির জন্য যাত্রীদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
