
হলিউডে যৌন হয়রানি, মানহানি ও আইনি লড়াইয়ের জটিলতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কিভাবে বিভিন্ন শিল্পী এবং অভিনেতারা নিজেদের মানসিক ও সামাজিক আক্রমণের সম্মুখীন হয়েছেন, এবং কীভাবে তারা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের রোমান্টিক ড্রামা ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে প্রেক্ষাগৃহের বাইরেও আইনি ও গসিপের মূলে। ছবির প্রধান তারকা ব্লেক লাইভলি ও জাস্টিন বালদোনি একে অপরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও মানহানির অভিযোগে জড়িয়ে পড়েন। শুটিংয়ের সময় লাইভলির অভিযোগ, বালদোনি এবং তাঁর ব্যবস্থাপনা তাঁকে একটি শত্রুতাপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করেছেন।
প্রচারনা চলাকালীন দ্বন্দ্বের প্রথম সংকেত দেখা যায়। লাইভলি তাঁর সহশিল্পী ব্র্যান্ডন স্কলেনার ও লেখিকা কলিন হুভারের সঙ্গে ছিলেন, কিন্তু বালদোনি একক সাক্ষাৎকারে পারিবারিক নির্যাতনের বিষয় তুলে ধরেন, যা দুই পক্ষে তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করে।
৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে লাইভলি মামলা দায়ের করেন, যেখানে অভিযোগ ছিল শুটিং সেটে অশালীন মন্তব্য, পর্নোগ্রাফি আলোচনা, এবং অশ্লীল ভিডিও প্রদর্শনের। তিনি আরও দাবি করেন, জনসংযোগ টিমের নেতৃত্বে একটি পরিকল্পিত চরিত্রহনন অভিযান চালানো হয়েছে।
জানুয়ারি ২০২৫ সালে বালদোনি পাল্টা মামলা দাখিল করে, ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে লাইভলি ও তাঁর স্বামী রায়ান রেনল্ডসের বিরুদ্ধে। তিনি যৌন হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করেন, বলেন যে এটি ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত।
জুন ২০২৫ সালে, এক ফেডারেল বিচারক বালদোনির মানহানির অভিযোগ খারিজ করেন কারণ প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ হয়নি। যদিও মামলাটি সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, জনমত আগ্রহ হারানো হয়নি।
মে ২০২৫ সালে, টেইলর সুইফটকে সাক্ষী হিসেবে সমন পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু পরে তা প্রত্যাহার করা হলেও আদালতের নথিতে তাঁর নাম থেকে যায়। লাইভলি জানান, সুইফটের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রয়োজন ছিল না।
অগাস্ট-সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালের আইনি লড়াইয়ের ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্কেও ফাটল দেখা দেয়, যেখানে লাইভলি তুলনা করেন তাঁর সম্পর্কের ভেঙে পড়ার সঙ্গে। জানুয়ারি ২০২৬ সালে, আদালতের নথিতে লাইভলি ও সুইফটের বার্তালাপ প্রকাশ্যে আসে, যা সুইফটের মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, লাইভলির যৌন হয়রানির মামলা ২০২৬ সালের মে মাসে শুনানির জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এই মামলা ভারতীয় চলচ্চিত্রের বিশ্বে ক্ষমতা, সেলিব্রিটি প্রভাব ও আইনি জটিলতার একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।