
নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় আম চুরিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর আব্দুর রাজ্জাক হত্যা মামলার মূলহোতাসহ এজাহারভুক্ত ১ নম্বর ও ২ নম্বর আসামিকে যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শনিবার (১১ জুলাই) রাতে ঢাকার আদাবর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে কাজ করে আসছে বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় আলোচিত এ হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মোহনপুর উপজেলার হরিহরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় ভ্যানচালক মো. রাজু (২৮)-এর পরিবারের আমগাছ থেকে আম চুরিকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী মো. রাসেলের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হরিহরপাড়া গ্রামের আয়েন উদ্দিনের বাড়ির সামনে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের পথরোধ করে বাঁশের লাঠি ও ইট দিয়ে হামলা চালানো হয়।
এতে রাজুর বাবা আব্দুর রাজ্জাক গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নওদাপাড়া ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি দেশব্যাপী গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ঘটনার পর নিহতের ছেলে মো. রাজু বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পেনাল কোডের ৩৪১/৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।
র্যাব-৫ রাজশাহী সদর কোম্পানি এবং র্যাব-২ সিপিসি-৩, মোহাম্মদপুর, ঢাকার যৌথ আভিযানিক দল শনিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আদাবরের রিং রোডের আজমেরী লাইভ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ২ নম্বর আসামি শাহিনুর রহমান ওরফে বুলবুল (৩০)-কে গ্রেপ্তার করে। পরে রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে আদাবরের ২ নম্বর রিং রোডে আল-মদিনা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি মকবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিই হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।