জয়,চীফ রিপোর্টার: রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন।
তাঁর ছোট বোন আফরোজী রহমান খেলনা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে তাঁর মরদেহ নগরীর পাঠানপাড়ার বাসভবনে রাখা হয়েছে।
সাইদুর রহমান ছিলেন অবিবাহিত। সাত ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। নগরীর পাঠানপাড়ায় তাঁর জন্ম। তিনি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা রাজশাহীর সাবেক গভর্নর ও খ্যাতিমান আইনজীবী আতাউর রহমান এবং মা ভাষা সৈনিক মনোয়ারা রহমান। তাঁর নানা ছিলেন রাজশাহীর প্রখ্যাত আইনজীবী, শিক্ষানুরাগী ও রাজনীতিক মাদার বখশ, যিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আশির দশকে দৈনিক করতোয়া পত্রিকায় কাজের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন সাইদুর রহমান। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক ভোরের কাগজে কর্মরত ছিলেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজশাহীর বিভিন্ন সমস্যা, সংকট, অনিয়ম ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনি ছিলেন সোচ্চার।
শিক্ষা জীবনে তিনি রাজশাহী গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে এসএসসি ও রাজশাহী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি রাশিয়ার মস্কো যান এবং সেখানে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।
এদিকে তাঁর মৃত্যুতে রাজশাহীর সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, "রাজশাহীর সব নৈতিক আন্দোলনে সাইদুর রহমান সক্রিয় ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজশাহীবাসীর অপূরণীয় ক্ষতি হলো।"
আজ সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত তাঁর মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাজশাহী প্রেসক্লাবের সামনে রাখা হবে। বাদ আসর দরগাপাড়া মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাঁকে হেঁতেম খাঁ গোরস্থানে দাফন করা হবে।
Rahman Moti