
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
কারিগরি শিক্ষার্থীদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশের লক্ষ্যে ‘স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’-এর রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতায় রাজশাহী অঞ্চলের ২৮টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে ৮৪টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। এর মধ্য থেকে সেরা ৬টি প্রকল্প আগামী ১৭ মে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পর্বে অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘অ্যাকসেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেংথেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন (ASSET)’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এনডিসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। স্বাগত বক্তব্য দেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহল আমিন এবং রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. আবু হানিফ। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ASSET প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. মঞ্জুরুল ইসলাম এবং ইন্সট্রাক্টর এস এম তাহমিদ সাদিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “কারিগরি শিক্ষা এখন আর বিকল্প নয়, এটি জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।” তিনি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সনদ নয়, কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা অর্জনই হতে হবে শিক্ষার মূল লক্ষ্য। জাপান ও জার্মানির মতো উন্নত দেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশকেও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্কিলস কম্পিটিশন শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি তরুণদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস তুলে ধরার একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব বিষয়ক সেমিনার এবং পুরস্কার বিতরণী আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমকর্মী ও অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনের প্রাতিষ্ঠানিক পর্ব গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ২১১টি প্রতিষ্ঠানে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী ৩,২০৯টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। সেখান থেকে বাছাইকৃত প্রকল্পগুলো আঞ্চলিক পর্যায়ে অংশ নেয় এবং সেরা প্রকল্পগুলো জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করবে। জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ীদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।