
বাংলাদেশের একনেক (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটি) ৪৫ হাজার কোটি টাকার ২৫টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পগুলো দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে। এসব প্রকল্পের মধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিবহন, এবং সামাজিক সেবা খাতের উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন করলে বেকারত্ব কমে আসবে এবং রাষ্ট্রীয় উন্নয়নকে সমর্থন করবে। একনেকের এই সিদ্ধান্ত দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে এবং জাতীয় উন্নয়নে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ের ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৮৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ ৩২ হাজার ১৮ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২ হাজার ২৯১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভায় নতুন ১৪টি, সংশোধিত ৬টি, এবং মেয়াদ বৃদ্ধির ৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বরাবর গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটি (মানিকছড়ি)-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়ক এবং মুন্সীগঞ্জের আঞ্চলিক ম-road উন্নয়ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও চট্টগ্রাম শহর থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে—শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের শক্তিবৃদ্ধি এবং পারকি পর্যটন সুবিধার উন্নয়ন। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘স্যানিটেশনে নারী উদ্যোক্তা’ প্রকল্প এবং কুমিল্লা জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত আছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশের অবকাঠামো নির্মাণ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অফিস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীও অনুমোদিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে প্রদত্ত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের জন্য ১ হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা উন্নয়ন প্রকল্প। শিক্ষা ও যুব খাতে ৬৪ জেলায় যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ সৃষ্টির জন্য একটি প্রকল্পও রয়েছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ছয়টি প্রকল্প নদীভাঙন রোধ ও ড্রেজিং কার্যক্রম, রাবার ড্যাম নির্মাণ ও আড়িয়াল বিল এলাকায় পানি ও ভূমি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীও অনুমোদনের আওতায় এসেছে।
সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ১০টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়, যার মধ্যে সরকারি কলেজ উন্নয়ন, ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণ প্রভৃতি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত।
