
নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা:
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহতদের মধ্যে নওগাঁর মান্দা উপজেলার অন্তত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তারা সবাই উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। নিহতদের মধ্যে সাতজনই একই গ্রামের হওয়ায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক।
নিহতরা হলেন— রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের তারেক জিয়া (২১), বাদশা মিয়া (৩০), আব্দুল বারিক (২০), সোহাগ হোসেন (২১), রবিউল ইসলাম (২৮), মাইনুর ইসলাম (৩০) ও সাগর হোসেন (২০), পাকুড়িয়া গ্রামের সহোদর মাইনুর রহমান (২৫) ও গিয়াস উদ্দিন (২২) এবং মশিদপুর গ্রামের সুজন আলী (৩৫)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহতরা সবাই ফেরিওয়ালার কাজ করতেন। তারা সাইকেলে করে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে প্লাস্টিকজাত পণ্য বিক্রির পাশাপাশি নারীদের চুল ও পুরোনো মোবাইল ফোন সংগ্রহ করতেন। জীবিকার প্রয়োজনে দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার উত্তর নাজিরপুর কলোনিতে ভাড়া বাসায় থেকে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।
স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তারা রাজশাহীগামী একটি রডবোঝাই ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রাকটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
একসঙ্গে এতজনের মৃত্যুর খবরে ভারশোঁ ইউনিয়নের রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে শোকের মাতম শুরু হয়েছে। নিহতদের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ হোসেন জানান, উত্তর নাজিরপুর কলোনিতে এ এলাকার শতাধিক যুবক বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করেন। ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়ি ফেরার সময় বাসভাড়া বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকে যাতায়াত করেন। নিহতরাও একইভাবে ট্রাকে বাড়ি ফিরছিলেন।
নিহত বাদশা মিয়ার স্ত্রী সাবিনা খাতুন স্বামী হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। একমাত্র মেয়ে রাহী মনিকে নিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাবিনা বলেন, “রাতে শেষবার কথা হয়েছিল। মেয়ের জন্য নতুন জামা আর মেহেদী কিনেছে বলেছিল। সকালে শুনি সে আর বেঁচে নেই।”
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। এখনো সব নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।