
নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার ঐতিহ্যবাহী চাটমোহর মহিলা কলেজে অধ্যক্ষের চাকরির মেয়াদ বাড়ানোকে কেন্দ্র করে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পদে বহাল থাকার অভিযোগ তুলে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়েছেন সংক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। এতে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
মঙ্গলবার দুপুরে কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ মাহমুদ সরকার সনজুর কক্ষে তালা দেন ২৮ জন শিক্ষক। একইসঙ্গে অধ্যক্ষের মেয়াদ বৃদ্ধি বাতিলের দাবিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন তারা।শিক্ষকদের অভিযোগ, চাকরির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই গোপন প্রক্রিয়ায় অধ্যক্ষ নিজের মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়েছেন। তারা এটিকে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করেন।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের মেয়াদ শেষ হয় গত বছরের ৩১ জানুয়ারি। মেয়াদ শেষের আগে তিনি এডহক কমিটির কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। পরে কমিটির সুপারিশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তাকে তিন মাসের জন্য দায়িত্ব পালনের অনুমোদন দেয়।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আগামী ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং এর মধ্যে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের নির্দেশনা রয়েছে।
তবে শিক্ষকদের দাবি, বিষয়টি গোপনে সম্পন্ন করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, কলেজে একাধিক যোগ্য সিনিয়র শিক্ষক থাকলেও কৌশলে পদ ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।এ ঘটনায় কলেজের চলমান নির্বাচনী ও প্রথম সাময়িক পরীক্ষা হুমকির মুখে পড়েছে। উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও স্থানীয়রা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ শরীফ মাহমুদ সরকার সনজু বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার মেয়াদ তিন মাস বাড়ানো হয়েছে। কক্ষে তালা দেওয়া বেআইনি এবং এ বিষয়ে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুসা নাসের চৌধুরী জানান, অধ্যক্ষের ৯০ দিনের মেয়াদ বৃদ্ধির চিঠি তারা পেয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
