
নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা:
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বরখাস্ত হওয়া এক প্রধান শিক্ষকের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের হাজী গোবিন্দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আকরাম হোসেন (৪৮) স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক। আহতদের মধ্যে রয়েছেন তার স্ত্রী তোহুরা বেগম (৪৪), খালাতো বোন শান্ত বেগম (৩৫) এবং একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এনামুল হক (৪০)। আহতদের উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর অবস্থায় তোহুরা বেগম ও শান্ত বেগমকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আকরাম হোসেন জানান, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দা ময়েজ উদ্দিন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তাকে রক্ষা করতে গেলে স্ত্রী ও স্বজনদেরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি বাড়ির ছাদে উঠে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পরে ময়েজ উদ্দিন ও আল মামুনের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং প্রায় ১৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও সাড়ে ৭ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি তার মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
সহকারী শিক্ষক এনামুল হক জানান, ধর্ষণসহ একাধিক মামলার কারণে আকরাম হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি আরও বলেন, শুনানি শেষে ফেরার পথে রাজশাহীতে তাদের পথরোধ করে অপহরণ করা হয়েছিল, পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা আকরাম হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়।
এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
