
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর কাকনহাট মহাবিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ মো. সুজাউদ্দীনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বরখাস্ত অবস্থাতেই তিনি কলেজের প্যাড ব্যবহার করে নিজ স্বাক্ষরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গভর্নিং বডির সভাপতি পরিবর্তনের আবেদন করেন। পরবর্তীতে ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে নতুন সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার দুপুরে কাকনহাট বাজারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচি থেকে নবনিযুক্ত সভাপতি সারোয়ার জাহানের নিয়োগ বাতিল এবং বরখাস্ত অধ্যক্ষ সুজাউদ্দীনের শাস্তির দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সোবহান, কাকনহাট পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম আহমেদ, পৌর যুবদলের সভাপতি মশিউর রহমান, গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য আব্দুল কুদ্দুস ও শিক্ষক প্রতিনিধি নাদিরা খাতুন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর থেকেই মো. সুজাউদ্দীন বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন। কলেজের তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি সর্বশেষ প্রায় ১৫ লাখ টাকা জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটির নিরীক্ষায় বিভিন্ন খাত থেকে প্রায় ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তারা।
অভিযোগ ওঠার পর গত বছরের ১২ অক্টোবর তৎকালীন সভাপতি আব্দুল হান্নান তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। একই সঙ্গে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনেও অভিযোগ দেওয়া হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও একটি অডিট টিম গঠন করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, বরখাস্ত থাকার পরও তিনি নানা উপায়ে নিরীক্ষা কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছেন।বক্তারা আরও বলেন, পুনর্বহালের উদ্দেশ্যে সুজাউদ্দীন বেআইনিভাবে কলেজের প্যাড ব্যবহার করে গভর্নিং বডির অজান্তে সভাপতি পরিবর্তনের আবেদন করেন। তার প্রভাবেই গত ২৬ এপ্রিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সারোয়ার জাহানকে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেয় বলে অভিযোগ করা হয়। যদিও নতুন সভাপতির স্থায়ী ঠিকানা ও কলেজের অবস্থান ভিন্ন পৌর এলাকায়।গভর্নিং বডির সদস্যদের দাবি, নবনিযুক্ত সভাপতি সম্প্রতি যে সভার আহ্বানপত্র পাঠিয়েছেন, তার খসড়া, প্রেরক ও প্রাপকের নাম-ঠিকানা বরখাস্ত অধ্যক্ষের হাতের লেখা।
দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত একজন ব্যক্তিকে সামনে রেখে এভাবে কার্যক্রম পরিচালনা গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তারা সভাপতির অপসারণ ও আগের সভাপতির পুনর্বহালের দাবি জানান।তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরখাস্ত অধ্যক্ষ মো. সুজাউদ্দীন। তিনি বলেন, সভাপতি নিয়োগ দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, এতে তার কোনো প্রভাব নেই। দুর্নীতির অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। নতুন সভাপতির জন্য চিঠি লেখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি কাউকে চিনতেন না, তাই সহায়তা করেছি।’
অন্যদিকে নতুন সভাপতি সারোয়ার জাহান বলেন, চিঠিটি কে লিখেছেন তা তিনি নিশ্চিত নন। পরে এ বিষয়ে অবহিত হলে তিনি বলেন, বিষয়টি যাচাই করে দেখবেন। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি বর্তমানে কলেজের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।
