
নিজস্ব প্রতিবেদক, আত্রাই: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তবে জনগণ আর কোনো অস্থিরতা চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার দুপুরে নওগাঁর পতিসরে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী রয়েছে, যারা সবসময় সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়। আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির কথা বলতে চাই না। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনো সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন হয়ে ওঠেনি। মানুষ বারবার পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করেছে, জীবন দিয়েছে, কিন্তু প্রত্যাশিত পরিবর্তন সবসময় আসেনি।”
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মূল ভিত্তি হচ্ছে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ। “আমরা বাংলাদেশি—এই পরিচয়কে সবার আগে ধারণ করতে হবে। নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। একইভাবে গণতন্ত্রও সংগ্রামের মাধ্যমেই ফিরে এসেছে,” বলেন তিনি।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা যে আন্দোলন করেছে, আমরা সেটিকে জুলাই যুদ্ধ বলি। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন এসেছে এবং নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনগণ নতুন সরকারের প্রতি আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিস্ট শক্তি দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। অর্থনীতি, ব্যাংক খাত ও প্রশাসনকে ধ্বংস করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই আজকের অবস্থানে আসতে হয়েছে। এখন কিছু মহল ছোটখাটো ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে গোলযোগ তৈরির চেষ্টা করছে।”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্ম ও অবদান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “রবীন্দ্রনাথ এখানে এসে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করেছিলেন। তিনি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতির প্রচলন করেছিলেন। সাহিত্য, সংগীত, নাটক ও দর্শনে তার অবদান বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। গীতাঞ্জলির মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছেন।”
জেলা প্রশাসক আ ন ম বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মিজানুর রহমান মিনু, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।
আলোচনা সভা শেষে ঢাকা ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত পতিসরে এ সময় উৎসবমুখর পরিবেশে হাজারো দর্শনার্থী ও রবীন্দ্রপ্রেমীর সমাগম ঘটে।